বাস লাভিং বা বাসের প্রতি প্রেম, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে বর্তমান ‘ক্রেজ’ এর অন্যতম। মূলত ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেইজ কেন্দ্রিক ভাবে চলছে এই বাস লাভিং কার্যক্রম। ছবি বা ভিডিও ধারণ করে এই বাস লাভাররা, সেসব আপলোড করছে বিভিন্ন গ্রুপে এবং পেইজে। সেখানে চলছে লাইক, রিয়েকশন, আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে বাস নিয়ে তরুণদের এই আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। এই বাস লাভারদের গ্রুপ, পেইজগুলায় সদস্যরা বাসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, বাসের মান এবং বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আলোচনা করে।

হাইওয়ে দিয়ে চলার সময়, প্রায়ই রাস্তার মাঝে এখন এই শৌখিন বাস লাভারদের চোখে পড়ে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে শুরু হলেও, এখন অনেককেই ডিএসএলঅার এর মতো অত্যাধুনিক ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এই বাসের ছবি শিকারিদের রাস্তার মাঝে দেখে একসময় যাত্রী, কর্মকর্তারা অবাক চোখে তাকালেও, এখনকার ছবিগুলোতে বাসের কর্মকর্তাদের হাসিমুখ দেখলে বুঝা যায় তারা এই শিকারিদের পছন্দই করছেন।

শখ হিসেবে অপরিচিত এই বাস জিনিসটিই এখন অনেকের শখ বা হবিতে পরিণত হয়েছে। যেমনটা বলছিলেন ফেসবুকে বাস লাভারদের গ্রুপ BD BUS LOVER এর এডমিন তামিম রহমান। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষদের অনেক রকম শখ থাকে যেমন গাড়ি, মোটর সাইকেল, ক্যামেরা, ফুল ইত্যাদি। আমাদের গ্রুপের মেম্বারদের শখ হলো বাস। আর শখের মূল্য লাখ টাকা। এগুলো শুধুমাত্র শখ থেকেই করা।’

বাস লাভারদের প্রধান অংশই মূলত শিক্ষার্থী। এছাড়া অনেক কর্মজীবীরাও এখন এই ‘প্রেমে আক্রান্ত’। ‌নতুন কোনো বাস আসলে, নতুন কোনো বডি তৈরি হলে কিংবা নতুন রুট, সব ক্ষেত্রেই এই বাস লাভাররা তৈরি তাদের স্মার্টফোন কিংবা ডিএসএলয়ার নিয়ে। কিছুদিন আগে ডাবল ডেকার আনা এক বাস এর ছবি তুলতে এই ‘বাস লাভাররা’ চট্টগ্রাম বন্দরেই চলে গিয়েছিল। বাস সংক্রান্ত যে কোনো খোঁজখবর পেতে এখন আর কষ্ট করে এদিক সেদিক দেখা লাগে না। এই বাস লাভার গ্রুপ গুলোয় চোখ রাখলেই তা দেখা যায়।

বর্তমানে অনেক বাস কোম্পানিই তাদের বাসের উদ্বোধনে এই বাস লাভারদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ঢাকা-ফেনি রুটের একটি পরিবহনের বিজনেস ক্লাস বাস উদ্বোধনে ফেনির বাস লাভার তরুণদের তারা দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

বাস কোম্পানি গুলো তরুণদের এই কার্যক্রম ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন। একদিকে যেমন তাদের প্রচার-প্রচারণা বাড়ছে, একই সাথে তারা পাচ্ছেন যাত্রীদের উপদেশ সম্বলিত রিভিউ। যার ফলে তারা তাদের সেবার মান উন্নত করতে পারছেন। অন্যদিকে ভ্রমণপিপাসুরা এই বাস লাভার গ্রুপ গুলো থেকে বাস সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন অনেক সহজেই । গ্রুপগুলোর ক্রমবর্ধমান মেম্বারের সংখ্যা দেখলেই এর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। BD BUS LOVER গ্রুপের বর্তমান মেম্বার বা সদস্য সংখ্যা ৩৮ হাজারেরও অধিক। Bus Lovers নামক গ্রুপের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪০ হাজার। এছাড়া বাস লাভারদের আরেকটি বড় ফেসবুক গ্রুপ হলো Bus Lover। এছাড়া ফেসবুকে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পেইজও আছে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: Tamim Rahman

One thought on “বাস লাভারস গ্রুপ: “বাস” যাদের ক্রাশ!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *